চল্লিশ বছরে নতুন করে রূপান্তরিত হোন | When Queen Talks | Best Life stories ever
You cannot copy any content of this page! For Permission: Ferdous Ara. Thank You!

চল্লিশ বছরে নতুন করে রূপান্তরিত হোন

মানুষের জীবনে চল্লিশ বছর বয়স একটি চমৎকার বয়স। জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক, বিবেচনা সবকিছুর মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে একটি পরিপূর্ণতা লাভ করার বয়স হলো এই চল্লিশের সময়টা। যৌবন এবং বৃদ্ধ বয়সের মধ্যবর্তী সময়টা হলো এই চল্লিশ বছর বয়সটি।

আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে মানুষের ভেতরে একটি মানসিকভাবে বদ্ধমূল ধারণা রয়েছে যে চল্লিশ বছর বয়সে মানুষ ম্লান হয়ে যায়। অথচ এটি একটি মারাত্মক ভুল ধারণা। সমাজ আমাদেরকে জোর করে বৃদ্ধ বানিয়ে দেয়। আর আমরাও সমাজের সেই কথাটিকে মনের ভেতরে গেঁথে ফেলি।

সমাজ থেকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া সেই মন ও মানসিকতা থেকে আমরা কিভাবে বের হয়ে আসবো তা’ নিয়েই আজকের আর্টিকেলের বিষয়বস্তু।

সূর্য ভরদুপুরে মধ্য গগনে এসে জ্বলজ্বল করে জ্বলতে থাকে আর সেই সময়টাই হলো সূর্যের প্রখর তাপের সময়। মধ্যগগণে এসেই সূর্য পৃথিবীকে প্রমাণ করে দেয় যে, তার তাপের প্রখরতা কতটা তীব্র। ঠিক তেমনি মানব জীবনের চল্লিশ বছরের সময়টুকুই হলো নিজেকে প্রমাণ দেওয়ার উপযুক্ত সময়।

শিশু আর শৈশব কাল কেটে যায় হেসে খেলে আর যৌবন কাটে কল্পনাবিলাসে। এরপর আসে এই মধ্যবয়স সময়টা। এই সময়টাতে প্রতিটি মানুষের জীবনেই মোটামুটি স্থিতিশীলতা চলে আসে। ছেলে মেয়েরা বড় হয়ে যায়। সংসার তার নিজস্ব গতিতে চলতে থাকে।

চল্লিশ বছর বয়স থেকেই আপনি যদি আবার নতুন করে শুরু না করেন তাহলে আপনি জীবনের কাছে হেরে যাবেন। আপনার অবস্থান হবে পেছনের কাতারে। খুব দ্রুত আপনি বৃদ্ধ অবস্থায় পতিত হবেন।

কারণ সবেমাত্র আপনি আপনার যৌবন কাল অতিক্রম করে মধ্য বয়সে এসে উপনীত হয়েছেন। এখন আপনি যদি মনে করেন যে, আমার যৌবন শেষতো’ সবশেষ। তাহলে মনে রাখবেন সব শেষ হয়ে যাবে। কেউ আর আপনাকে মূল্যায়ন করবে না। আর যদি মনে করেন, না, এখনই সময় আমার, নতুন করে নিজেকে গড়ে তোলার। তাহলে আপনি নতুন উদ্যমে নতুন রূপে নিজেকে প্রকাশ করতে পারবেন।

আচ্ছা আপনি কি বাজপাখির বৃদ্ধ বয়সেও ক্ষিপ্রতার সাথে শিকার করার রহস্য সম্পর্কে জানেন ? যদি না জেনে থাকেন, চলুন তাহলে আমরা সেই বাজপাখির থেকেই নতুন উদ্যমে আবার নতুন করে বেঁচে থাকার শিক্ষাটা নিয়ে নিই।

বাজ পাখির গল্প

বাজপাখির মোট আয়ুস্কাল হলো সত্তর বছর। বাজ পাখি জানে যে তাকে সত্তর বছর পর্যন্ত জীবিত থাকতে হবে। কিন্তু যখন তার বয়স চল্লিশ বছর পূর্ণ হয় তখন তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কারণ এই সময়টাতে এসে তিনটি অঙ্গের দিক থেকে বাজপাখি ভিষণ দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই তিনটি অঙ্গ হলোঃ-

এক. ডানা। যা দ্বারা বাজপাখি সারা আকাশে উড়ে বেড়াতো। মাটিতে নেমে পড়তো শিকারের খোঁজে। বয়সের ভারে সেই ডানা আজ দুর্বল হয়ে গেছে। এমন দুর্বল ডানা নিয়ে সে আর এখন শিকারের খোঁজে কোথাও উড়ে যেতে পারেনা।

দুই. পায়ের নখর। যা দ্বারা সে তার শিকার করা খাবারকে খাঁমচে ধরতো। নখরগুলো দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে খাবারকে আঁকড়ে ধরবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

তিন. ঠোঁট। যা দ্বারা সে খাবারকে কেটে ছিরে খেত। এই দুর্বল ঠোঁট দিয়ে সে আর কোন খাবারকে তার খাওয়ার মতো উপযুক্ত করতে পারে না।

শরীরের এই তিনটি অঙ্গের দূর্বলতার কারণে বাজ পাখির জন্য শিকারের খোঁজে যাওয়া, শিকার ধরা, এবং খাওয়া সবকিছুই কঠিন হয়ে পড়লো। তাহলে এখন সে কি করবে ? বাজ পাখির সামনে তখন তিনটি পথ খোলা থাকে।

এক. আত্মহত্যা করে নিজের জীবনকে শেষ করে দেওয়া।

দুই. শকুন যেভাবে মরা প্রাণী খেয়ে থাকে ঠিক সেভাবে তাকেও মরা প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকতে হবে।

তিন. নিজেকে নতুনভাবে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলা।

বাজপাখি তখন তৃতীয় পথটাই বেছে নেয়। সে তখন নিজেকে নতুন করে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য অনেক উঁচু পাহাড়ে গিয়ে বাসা বাঁধে। তারপর শুরু হয় নিজেকে নতুন রূপে গড়ে তোলার কঠিন পরীক্ষা।

সর্বপ্রথম সে পাথরে বাড়ি মেরে মেরে তার ঠোঁট ও নখরগুলোকে ভেঙে ফেলে। তারপর সে অপেক্ষা করতে থাকে নতুন করে ঠোট এবং নখ গজিয়ে উঠার জন্য।

নতুন করে ঠোঁট আর নখর যখন গজিয়ে উঠে তখন সে প্রচন্ড কষ্ট সহ্য করে ডানার পালক গুলোকে একটি একটি করে উপড়াতে থাকে। এভাবে সে দুটো ডানা থেকে সমস্ত পালক গুলোকে উপড়ে ফেলে। এবার অপেক্ষা করতে থাকে নতুন ডানা গজিয়ে ওঠার জন্য।

এই কঠিন পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হবার জন্য বাজপাখিকে সর্বমোট ১৫০ দিন অপেক্ষা করতে হয়। বাজপাখির মধ্যে তিনটি অঙ্গ যখন আবার নতুন করে গজিয়ে উঠে তখন বাজপাখি তার নিজের ভেতরে আগের চেয়ে আরো চৌকষতা ও ক্ষিপ্রতা অনুভব করতে থাকে। নতুন উদ্যোমে প্রচন্ড ক্ষীপ্রতার সাথে বাজ পাখি আকাশে তার ডানা মেলে দিয়ে এক নতুন জীবন শুরু করে।

বাজ পাখির ঘটনা থেকে কি বুঝলেন ?

জীবন তার নির্দিষ্ট গতিতে চলতেই থাকবে। জীবনের গতিপথ কেউ কখনো বদলাতে পারেনা। কিন্তু ইচ্ছে করলেই আমরা আমাদের কে বদলাতে পারি।

একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে প্রতিটি মানব জীবন শুরু হয়। তারপর একটি নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর গন্তব্যে পৌঁছে যায়। তাই জীবন চলুক তার নিজস্ব গতিপথে আপনি চলুন আপনার মনের গতিপথে। জীবনে থেমে যেতে নেই। থেমে গেলেন তো হেরে গেলেন। আপনি শুধু আপনার দিকেই লক্ষ্য রাখুন।

আপনার নিজস্ব ক্ষমতাই পারে আপনাকে সচল রাখতে। তাই চল্লিশের ঘরে এসে ভাববেন না যে, আমার তো’ এখন সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আমার ভবিষ্যৎ প্রজন্মরাই সবকিছু করবে কিংবা তারাই আমার সব দেখাশোনা করবে। এখন তো ওদের ডানা মেলে উড়ার সময়। এরকম ভাবনা থেকে বের হয়ে আসুন।

ফেলে আসা দিন গুলোতে যত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন সেই সব অভিজ্ঞতাগুলো কে নতুন করে কাজে লাগাতে শুরু করুন। আর অর্জন করুন নতুন এক দীপ্তিময় জীবন। নিজেকে প্রকাশ করুন নতুন রূপে নতুন ভাবে। ক্যালেন্ডারের পাতায় বয়সকে বাড়তে দিন। নিজের শরীরে, মনে, চিন্তা ও ভাবনায় বয়সকে যৌবনের শক্তিশালী উদ্যমের ফ্রেমের মধ্যেই বেঁধে রাখুন। যেখানে আপনি থাকবেন আপনার মনের রাজা হয়ে।

সমাজে চারপাশে একটু তাকিয়ে দেখুন তাহলে দেখতে পাবেন যতই দিন যাচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ তারা নিজেরাই নিজেদেরকে এই অবস্থায় নিয়ে এসেছে। তাই এখন যারা চল্লিশে আছেন তারা সেই বৃদ্ধদেরকে দেখেই শিক্ষা নিয়ে নিন। ভবিষ্যতে আপনি কি তবে ওই বৃদ্ধাশ্রমে যেতে চান ? নাকি বাজ পাখির মতো নিজের পুরনো, দুর্বল হয়ে যাওয়া সমস্ত চিন্তাভাবনা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে উদ্যোমী এক নতুন মানুষে রূপান্তরিত হবেন।

চল্লিশের ঘরে এসে পৌঁছানো সকল মানুষদের জন্য রইলো অনেক অনেক শুভকামনা।

Image:Best Life

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *