বৃদ্ধ অবস্থায়ও নিঃসন্তান দম্পতির সন্তান | When Queen Talks | Best Life stories ever
You cannot copy any content of this page! For Permission: Ferdous Ara. Thank You!

বৃদ্ধ অবস্থায়ও নিঃসন্তান দম্পতির সন্তান লাভ করা সম্ভব

বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর প্রতিটি দম্পতি সন্তানের আকাঙক্ষা করে থাকেন। পিতা মাতা হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন। মহান আল্লাহ তা’য়ালার ইচ্ছা অনুযায়ী অধিকাংশ দম্পতিই সন্তান লাভ করার সৌভাগ্য অর্জন করে থাকে। ব্যতিক্রম ভাবে আল্লাহর ইচ্ছায় কোনো কোনো দম্পতি সন্তানের মুখ দেখার সৌভাগ্য লাভ করে না। সেই সব নিঃসন্তান স্বামী স্ত্রীর মনে অনেক দুঃখ কষ্ট থাকে। তাঁরা মা বাবা হবার সৌভাগ্য অর্জনের আশায় দেশ বিদেশে অনেক চিকিৎসা করে থাকেন।

আজকের আর্টিকেল সেইসব নিঃসন্তান দম্পতিদের মনে আশা জাগাতে পারে বলে আমি মনে করি। আল্লাহর অশেষ কৃপা ও বিশেষ ক্ষমতার উপর বিশ্বাস ও ভরসা রেখে যদি কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে থাকেন তবে আল্লাহ কখনো তাকে নিরাশ করেন না।

সবকিছু কেড়ে নেওয়ার এবং না দেওয়ার মালিকও যেমন আল্লাহ, ঠিক তেমনি সবকিছু দেওয়ার মালিকও আল্লাহ। এই বিশ্বাসটুকু যে বান্দার হৃদয়ে বদ্ধমূল আছে সেই বান্দা আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে তার মনের ইচ্ছা পূরণের আশায় প্রার্থনা করে থাকেন। আর সেই প্রার্থনাই আল্লাহর কাছে খুব প্রিয় এবং তা কবুল হবার যোগ্যতাও রাখে।

হযরত যাকারিয়া (আঃ) নিঃসন্তান ছিলেন। উনি যখন বৃদ্ধ অবস্থায় পৌঁছে গেলেন তখন উনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলেন এই ভেবে যে, তার মৃত্যুর পর আল্লাহর মনোনীত দ্বীন কে বাঁচিয়ে রাখবার তো কেউ থাকবে না। তার উত্তরাধিকারী সূত্রে কেউ যদি থাকতো তবে এই দ্বীন কে বাঁচিয়ে রাখতো। আসলে আল্লাহ চাইলে তো সবকিছু এমনিতেই হয়ে যায়। কিন্তু কখনো কখনো বঞ্চিত রাখার মধ্য দিয়েই আল্লাহ তার বান্দাদের পরীক্ষা করে থাকেন এবং অন্যদের জন্যও সেটাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে তৈরি করেন।

আল্লাহ ইচ্ছা করলে হযরত যাকারিয়া (আঃ) কে তার যৌবনাবস্থায় পুত্র সন্তান দান করতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটা করেননি। কারণ আল্লাহ সবকিছুর মধ্যে তাঁর হেকমত লুকিয়ে রাখেন। যাতে বান্দারা সেখান থেকে জ্ঞান আরোহন করে। হযরত যাকারিয়া (আঃ) কে সন্তান দানের ব্যাপারে আল্লাহর সাথে হযরত যাকারিয়া (আঃ) এর কথোপকথন গুলো কোরআনের আয়াতে যেভাবে উল্লেখিত আছে তা’ নিম্নে বর্ণিত হলঃ-

ذِكْرُ رَحْمَتِ رَبِّكَ عَبْدَهُ زَكَرِيَّا

[সূরা-মারইয়াম -আয়াত- ০২]

“এটা আপনার পালনকর্তার অনুগ্রহের বিবরণ তাঁর বান্দা যাকারিয়ার প্রতি”।

উপরের আয়াতটিতে হযরত যাকারিয়া (আঃ) এর প্রতি আল্লাহ কিভাবে অনুগ্রহ করেছেন তা’ নবী করিম (সাঃ) এর নিকট বর্ণনা করছেন।

إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُ نِدَاءً خَفِيًّا

[ মারইয়াম -আয়াত- ০৩]

“যখন সে তাঁর পালনকর্তাকে আহবান করেছিল নিভৃতে”।

হযরত যাকারিয়া (আঃ) নিরবে নিভৃতে কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে যে প্রার্থনা করেছিলেন সে কথার বর্ণনা দিয়েছেন উপরের আয়াত টিতে।

قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُن بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا

[ মারইয়াম -আয়াত- ০৪]

“সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা আমার অস্থি বয়স-ভারাবনত হয়েছে; বার্ধক্যে মস্তক সুশুভ্র হয়েছে; হে আমার পালনকর্তা! আপনাকে ডেকে আমি কখনও বিফল মনোরথ হইনি”।

উপরের আয়াতটিতে হযরত জাকারিয়া আল্লাহর কাছে প্রার্থনায় যা বলেছেন, হে আল্লাহ! আমি তো বৃদ্ধ হয়ে গেছি। আমার হাড়গোড় সব ঝুরঝুরে হয়ে গেছে। আমার মাথার চুল সব সাদা হয়ে গেছে। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি আর আপনাকে ডেকে আমি কখনোই ব্যর্থ হইনি।

وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِن وَرَائِي وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا فَهَبْ لِي مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا

[ মারইয়াম -আয়াত- ০৫]

“আমি ভয় করি আমার পর আমার স্বগোত্রকে এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; কাজেই আপনি নিজের পক্ষ থেকে আমাকে এক জন কর্তব্য পালনকারী দান করুন”।

আমি আমার স্বগোত্র কে ভয় পাচ্ছি যে, তারা আমার মৃত্যুর পর দ্বীন নষ্ট করে ফেলবে। আমার স্ত্রীর তো সন্তান হবার সম্ভাবনা নেই। সে তো বন্ধ্যা। অর্থাৎ তিনি নিজেও বৃদ্ধ হয়ে গেছেন, তাঁর স্ত্রীও বন্ধ্যা এবং বৃদ্ধা। সুতরাং সন্তান লাভ করার সম্ভাবনা নেই। তবুও আশা রেখে আল্লাহর কাছে বলছেন যে, আপনি নিজের পক্ষ থেকেই দ্বীন পরিচালনার দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত একজনকে দান করুন।

يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ ۖ وَاجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا

[ মারইয়াম -আয়াত- ০৬]

“সে আমার স্থলাভিষিক্ত হবে ইয়াকুব বংশের এবং হে আমার পালনকর্তা, তাকে করুন সন্তোষজনক”।

যে হবে ইয়াকুব বংশের এবং আমার উত্তরাধিকারী। যার উপর আপনি সন্তুষ্ট থাকবেন।

يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ اسْمُهُ يَحْيَىٰ لَمْ نَجْعَل لَّهُ مِن قَبْلُ سَمِيًّا

[মারইয়াম -আয়াত- ০৭]

“হে যাকারিয়া, আমি তোমাকে এক পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম হবে ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে এই নামে আমি কারও নাম করণ করিনি”।

আল্লাহ্ তখন হযরত যাকারিয়া (আঃ) এর প্রার্থনা কবুল করে পুত্র সন্তানের সংবাদ প্রদান করলেন।

قَالَ رَبِّ أَنَّىٰ يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا وَقَدْ بَلَغْتُ مِنَ الْكِبَرِ عِتِيًّا

[মারইয়াম -আয়াত- ০৮]

“সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা কেমন করে আমার পুত্র হবে অথচ আমার স্ত্রী যে বন্ধ্যা, আর আমিও যে বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে উপনীত”।

হযরত যাকারিয়া (আঃ) নিজের বৃদ্ধাবস্থা এবং স্ত্রীর বন্ধ্যাত্বের কথা আল্লাহর কাছে প্রকাশ করে বললেন, এই অবস্থায় আমি কিভাবে পুত্র সন্তান জন্ম দিতে পারি ?

قَالَ كَذَٰلِكَ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَقَدْ خَلَقْتُكَ مِن قَبْلُ وَلَمْ تَكُ شَيْئًا

[মারইয়াম -আয়াত- ০৯]

“আল্লাহ বললেনঃ এমনিতেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলে দিয়েছেনঃ এটা আমার পক্ষে সহজ। আমি তো পুর্বে তোমাকে সৃষ্টি করেছি এবং তুমি কিছুই ছিলে না”।

আল্লাহ বললেনঃ আমি চাইলেই তো সবকিছু হয়ে যায়। আমার জন্য তো সবকিছুই সহজ। একসময় তুমিও তো কিছুই ছিলে না , আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি। আল্লাহর জন্য অসম্ভব বলে তো কিছু নেই। আল্লাহ শুধু হও বললেই হয়ে যায়। আল্লাহু জীবিতকে মৃত এবং মৃতকে জীবিত করতে পারেন। তাই প্রতিটি পদে-পদে আমাদের আল্লাহর ক্ষমতা ও রহমতের উপর বিশ্বাস রাখা উচিৎ।

قَالَ رَبِّ اجْعَل لِّي آيَةً ۚ قَالَ آيَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلَاثَ لَيَالٍ سَوِيًّا

[ মারইয়াম -আয়াত- ১০]

“সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে একটি নির্দশন দিন। তিনি বললেন তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি সুস্থ অবস্থায় তিন দিন মানুষের সাথে কথাবার্তা বলবে না”।

এরপর হযরত যাকারিয়া (আঃ) আল্লাহর কাছে একটি নিদর্শন চাইলে আল্লাহ বললেন, সুস্থ অবস্থায় তুমি তিন দিন কোনো মানুষের সাথে কথাবার্তা বলবে না।

فَخَرَجَ عَلَىٰ قَوْمِهِ مِنَ الْمِحْرَابِ فَأَوْحَىٰ إِلَيْهِمْ أَن سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا

[মারইয়াম -আয়াত- ১১]

“অতঃপর সে কক্ষ থেকে বের হয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে এল এবং ইঙ্গিতে তাদেরকে সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহকে স্মরণ করতে বললো”।

আল্লাহর আদেশ পালনার্থে হযরত যাকারিয়া (আঃ) বাহিরে এসে তার সম্প্রদায়ের কাছে গেলেন। মুখে কোনো কথা না বলে ইশারা ইঙ্গিতে আল্লাহকে কিভাবে সকাল সন্ধা স্মরণ করতে হবে সেই সমস্ত কিছুর নির্দেশ তাদেরকে দিয়ে দিলেন।

يَا يَحْيَىٰ خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ ۖ وَآتَيْنَاهُ الْحُكْمَ صَبِيًّا

[ মারইয়াম -আয়াত- ১২]

“হে ইয়াহইয়া দৃঢ়তার সাথে এই গ্রন্থ ধারণ কর। আমি তাকে শৈশবেই বিচারবুদ্ধি দান করেছিলাম”।

অবশেষে হযরত যাকারিয়া (আঃ) এর পুত্র সন্তান হলো। আল্লাহ হযরত ইয়াহহিয়া (আঃ) কে দৃঢ়তার সাথে ধর্মীয় গ্রন্থ আঁকড়ে ধরার জন্য আদেশ করলেন। আল্লাহ হযরত ইয়াহিয়া (আঃ) কে শিশুকাল থেকেই বিচারবুদ্ধি দান করেছিলেন। সেই কথাই কোরআনের আয়াতে উল্লেখ করেছেন।

وَحَنَانًا مِّن لَّدُنَّا وَزَكَاةً ۖ وَكَانَ تَقِيًّا

[মারইয়াম -আয়াত- ১৩]

“এবং নিজের পক্ষ থেকে আগ্রহ ও পবিত্রতা দিয়েছি। সে ছিল পরহেযগার”।

وَبَرًّا بِوَالِدَيْهِ وَلَمْ يَكُن جَبَّارًا عَصِيًّا

[মারইয়াম -আয়াত- ১৪]

“পিতা-মাতার অনুগত এবং সে উদ্ধত, নাফরমান ছিল না”।

وَسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَمُوتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا

[মারইয়াম -আয়াত- ১৫]

“তার প্রতি শান্তি-যেদিন সে জন্মগ্রহণ করে এবং যেদিন মৃত্যুবরণ করবে এবং যেদিন জীবিতাবস্থায় পুনরুত্থিত হবে”।

হযরত ইয়াহহিয়া (আঃ) ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র ও বিনয়ী লাজুক এবং ইবাদত গুজার বান্দা। তিনি মা বাবার অত্যন্ত বাধ্য ছিলেন। তার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে সব সময় শান্তি দান করা হয়েছিল। সে কথাই আল্লাহ কোরআনের আয়াতে বলেছেন।

আল্লাহ সর্ব অবস্থায় প্রশংসিত এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর। তাই কখনো কোনো অবস্থাতাতেই নিরাশ না হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে যা কিছু চাওয়ার আল্লাহর কাছেই চেয়ে নিতে হয়।

Image:Inside Islam

8 thoughts on “বৃদ্ধ অবস্থায়ও নিঃসন্তান দম্পতির সন্তান লাভ করা সম্ভব

  1. Hello Dear, whenqueentalks.info
    My name is Maryam, I am the sales and marketing manager at Arshon Technology, we provide engineering and manufacturing services for any Electronic product.
    We are able to deisgn any PCB and manufacture it in North America in a very cost efective way, we will beat any competitor quote on PCB and PCBA.

    See our president message in below: https://youtu.be/jRlqM1LdKvA

    Feel free to reach us if you have any inquiry.

    Best Regards,
    Maryam
    Sale and Marketing manager @ Arshon Technology Inc.
    info@arshon.com
    1(877)207-2349

    This message is submitted via your contact page.

    Site: https://www.arshon.com

  2. Hi. I have checked your whenqueentalks.info and i see you’ve got some duplicate content so probably it
    is the reason that you don’t rank high in google.
    But you can fix this issue fast. There is a tool that rewrites content like human,
    just search in google: miftolo’s tools

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *