পথচারীর গায়ে কাঁদা, চালকের অপরাধ নয় কি? | When Queen Talks | Best Life stories ever
You cannot copy any content of this page! For Permission: Ferdous Ara. Thank You!

পথচারীর গায়ে কাঁদা ছিটানো চালকের অপরাধ নয় কি?

ছবিটির মধ্যে কাঁদায় মাখামাখি হয়ে যাওয়া একজন স্কুল ছাত্রীকে দেখতে পাচ্ছেন। বেচারী মেয়েটি স্কুল থেকে হয়তোবা বাসায় ফিরছিল কিংবা স্কুলে যাওয়ার পথে ছিল। তার গায়ে এত কাঁদা কেন ? সে নিজেই কি এভাবে তার পুরো শরীরে কাঁদা মাখিয়েছে, নাকি সে রাস্তার কাঁদার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল ? না, এর কোনোটিই নয়।

গাড়ি চালকের অভদ্রতা

একটি মাইক্রোবাস রাস্তা দিয়ে যাবার সময় কাঁদার মধ্যে তার গাড়ির চাকা চালিয়ে দিয়ে মেয়েটির গায়ে কাঁদা ছিটিয়ে দিয়ে চলে গেছে। ছবিতে পরিষ্কার ভাবেই দেখা যাচ্ছে যে, প্রশস্ততার দিক দিয়ে রাস্তাটি বেশ বড় এবং সেইসাথে যথেষ্ট ফাঁকা রাস্তা। তবুও গাড়ি চালক রাস্তার যে পাশে ছাত্রীটি অবস্থান করছিল বা হেঁটে যাচ্ছিলো সেই কাঁদার পাশ দিয়ে গিয়ে মেয়েটির গায়ে কাঁদা ছিটিয়ে দিয়ে চলে গেল। এই হলো আমাদের দেশের গাড়ির চালকদের অবস্থা।

আমাদের দেশে অনেক মেয়েরাই পায়ে হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করে থাকে। তাই রাস্তা ঘাটে মেয়েদেরকে ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়া থেকে শুরু করে অনেক ধরণের কষ্টকর, দুঃখজনক, অনৈতিক বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয়। সেই ক্ষেত্রে কখনো কখনো বিবেকহীন মানুষের স্বেচ্ছাচারিতা ও মূর্খতার কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যেও পড়তে হয়। দুর্ভাগ্যবশত আজ এই ছাত্রীটিকে পড়তে হয়েছে তেমনই একটি নোংরা এবং বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। তবে এইভাবে পথচারীর গায়ে কাঁদা ছিটিয়ে দিয়ে গাড়ি চলে যাওয়া আমাদের দেশে নতুন কোনো চিত্র নয়।

এর কারণগুলো হলো,

০১. বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে সব সময় খোঁড়াখুঁড়ি চলতেই থাকে। একটু বৃষ্টি হলেই এই খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাস্তার খুঁড়ে ফেলা মাটি গুলো কাঁদায় পরিনত হয়ে যায়।

০২. এরপর দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতির কারণে সঠিকভাবে রাস্তা তৈরি করা কিংবা মেরামত দু’টোর কোনটিই হয় না। যার কারণে অল্প একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা থেকে আবরণ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির কারণে সেইসব গর্তগুলো কাঁদা এবং পানিতে ভর্তি থাকে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সবসময় সাংঘাতিকভাবেই উদাসীন থাকেন। সম্মানিত কর্তৃপক্ষকে কখনোই পায়ে হেঁটে কোথাও যাতায়াত করতে হয় না। তাঁদেরকে কখনো রাস্তার পথচারী হতে হয় না। তাই রাস্তায় চলতে গিয়ে পথচারীর বিড়ম্বনা বলতে কাকে বোঝায় সেই অভিজ্ঞতাও তাদেরকে কখনো অর্জন করতে হয়নি।

০৩. এরপর থাকছে গাড়ি চালকদের বর্বরতা। এমন নিকৃষ্ট কাজের জন্য গাড়ি চালকদের ভিতরে কোনো অনুশোচনা কাজ করে না বরঞ্চ তারা ইচ্ছে করেই কাজটি করে থাকে। এ ধরনের কাজ করে তারা প্রকাশ্যে চিৎকার করে উল্লাস প্রকাশ করে মনে মনে এক ধরনের বিকৃত মানসিক আনন্দ পেয়ে থাকে। এই রুচিহীন আনন্দের কারণে মানুষগুলোর ভেতরে ন্যায় অন্যায় বোধ কাজ করে না।

এই অন্যায় কাজের কোন প্রতিকার নেই কেন ?

এমন নিকৃষ্ট কাজ যে গাড়ির চালক করতে পারে তাকে এই ব্যাপারে জবাবদিহি করার মত কেউ কি আছে ? না নেই। কিংবা তার এই ঘৃণার্য কর্মের কারণে তাকে অপরাধী বলে সাব্যস্ত করার মতো কোনো আইন কি বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে ? না হয়নি। কারণ এমন নিকৃষ্ট কাজ করার হেতু তাকে আইনত দণ্ড দেওয়া হবে, এমন আইন এখনো বাংলাদেশে তৈরি হয়নি। এমন হীন কাজকে এখনো অপরাধ হিসেবে আমাদের দেশে সাব্যস্ত করা হয়নি। তাই এ ধরনের অপরাধ আমাদের দেশে সব সময় গাড়ি চালকরা অনায়াসে ঘটাতে থাকে।

এখন প্রশ্ন হলো, বারবার পথচারীকে এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয় কেন ? এর জন্য দায়ী কে? পথচারী নাকি গাড়ির ড্রাইভার ?

রাস্তা এবং গাড়ির ড্রাইভারের সাথে পথচারীর সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একজন ড্রাইভার যখন রাস্তায় গাড়ি চালাতে থাকে তখন তাকে রাস্তার নিয়ম কানুন গুলো যথাযথভাবে মেনে চলার জন্যও তার প্রতি নির্দেশ দেওয়া থাকে। ঠিক তেমনি পথচারীর জন্যও কিছু নিয়ম কানুন নির্দিষ্ট করা আছে। গাড়ির ড্রাইভার যখন গাড়ি চালানোর সময় রাস্তার সঠিক নিয়ম কানুন গুলো নির্দেশনা অনুযায়ী মেনে চলতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সমস্যা হয় না।

যে কোনো আইন তৈরি করা হয় মানুষের কল্যান ও সুবিধার্থে। সে ক্ষেত্রে একজন গাড়িচালক যখন আইনকে ভঙ্গ করে বেপরোয়াভাবে তার ইচ্ছা অনুযায়ী গাড়িকে পরিচালনা করতে থাকে তখনই সেখানে মানুষের অসুবিধে সৃষ্টি হয়। যার কারণে আমাদের দেশে অহরহ রোড আ্যক্সিডেন্টে পথচারী নিহত হবার ঘটনা ঘটেই থাকে। রাস্তাঘাটের যে কোনো দুর্ঘটনার জন্য গাড়ির চালকরাই দায়ী হয়ে থাকে তাদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে।

আমাদের দেশে গাড়িচালক অল্পশিক্ষিত হয়ে থাকে।

যার কারণে তাদের ভেতরে সব সময় একটি উগ্রভাব দেখা যায়। গাড়ি চালানোর জন্য যতটুকু দক্ষতার সাথে রাস্তায় গাড়ি চালানো যায় সেই ড্রাইভিং শিক্ষার সাথে একটি গাড়ির লাইসেন্স পেলেই যে কোন ব্যক্তি রাস্তায় গাড়ি চালানোর যোগ্যতাসম্পন্ন একজন ড্রাইভার বা গাড়ি চালক হয়ে পড়ে। অর্থাৎ একজন মানুষ গাড়ির লাইসেন্স এর মালিক হয়ে রাস্তার নিয়ম-কানুন মেনে গাড়ি চালাতে পারলেই হলো। এছাড়া গাড়ি চালকের আর কোনো শিক্ষার প্রয়োজন হয় না।

রাস্তায় প্রতিটি পথচারীর উপর তাদের যে সম্মানবোধ রাখার প্রয়োজন আছে সেই শিক্ষাটুকুও তাদের আছে কিনা তার পরীক্ষা করার প্রয়োজন মনে করে না। গাড়ি চালকদের মধ্যে নীতিবোধ, মানবতাবোধ, নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন ইত্যাদি আছে কিনা তা’ও যাচাই করা হয় না। যার কারণে চলন্ত বাসে তারা মেয়ে যাত্রীকে ধর্ষণ করার মত হীন কাজে লিপ্ত হয়েছে।

গাড়ি চালনা শিক্ষার পাশাপাশি তাদেরকে নমনীয়তা ও বিনয়ের শিক্ষা দেওয়া হয় না বলেই তারা পথচারীর সাথে নানা রকম দুর্ব্যবহার করে থাকে এবং সেই সাথে অন্যান্য গাড়ির ড্রাইভারদের সাথেও পান থেকে চুন খসলেই হলো, শুরু হয়ে যায় নানা রকম অশ্লীল অশ্রাব্য কথার মধ্য দিয়ে বাকবিতণ্ডা সহ মল্লযুদ্ধ। যা কখনো কখনো চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এই ধরনের অপরাধ গুলো থেকেই শত্রুতা সৃষ্টি হয়। যার ফলে পরে সেই শত্রুতার জের ধরেই বড় অপরাধ ঘটে থাকে। তাই এগুলোর একটি সুষ্ঠু নীতিমালার থাকা প্রয়োজন।

অপরাধকে অপরাধ হিসাবে না দেখার কারণে অপরাধী প্রশ্রয় পেয়ে থাকে

অনেকেই বলতে পারেন, এই আর নতুন কি ! এরকম তো হরহামেশা পথচারীরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েই থাকে। হ্যাঁ আসলেই আমাদের এখন সবকিছু দেখতে দেখতে গা সওয়া হয়ে গেছে। আমরা সমস্ত অপরাধকে মেনে নিয়ে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেও সাব্যস্ত করতে ভুলে গেছি। তাই কোনো অপরাধকে আর এখন অপরাধ বলে মনে হয় না। তাইতো মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাতকেও যৌন নিপীড়নকারীরা আগুনে পুড়িয়ে মারতে পারে। এদেশে অপরাধীর অপরাধ করার পরেও তাদের অপরাধের কোনো শাস্তি না হওয়ার কারণে একই অপরাধ বারবার ঘটে থাকে।

সুস্থ নীতিমালার আইন বিধানের সাথে সাথে আইন প্রয়োগ করাটাও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আইন থাকা সত্বেও যেখানে আইনের প্রয়োগ হয় না সে আইনের কোনো মূল্য থাকে না। রাস্তা, গাড়ি চালক এবং পথচারী একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং চালক দ্বারা কোনো পথচারী যেন দুর্ঘটনা সহ অন্যান্য যে কোনো ব্যাপারে নাজেহাল থেকে নিরাপদ থাকে সেই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের জোরালো হস্তক্ষেপ করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের প্রতিটি স্তরে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের আশা রেখে এখানেই শেষ করছি।

Image:Facebook

2 thoughts on “পথচারীর গায়ে কাঁদা ছিটানো চালকের অপরাধ নয় কি?

  1. কাদা ছিটানো অবশ্যই অপরাধ । কিছু কিছু বেয়াড়া চালক আছে মনে হয় ইচ্ছে করেই যেনো এসব করছে । অথচ কাদা যেখানে আছে সেখানে আস্তে কএ গাড়ী চালিয়ে গেলেই পারতো ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *