ঘরে বেসন কিভাবে তৈরি করে ? | When Queen Talks | Best Life stories ever
You cannot copy any content of this page! For Permission: Ferdous Ara. Thank You!

ঘরে বেসন কিভাবে তৈরি করে ?

রোজা একদম দুয়ার প্রান্তে। অর্থাৎ আর মাত্র তিনদিন পরেই মুসলমানদের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে। রমজান মাসের পুরো একটি মাসই প্রতিটি ঘরে ঘরে ইফতারি তৈরিতে বেসনের প্রয়োজনীয়তার শেষ নেই। ইফতারের বেশিরভাগ ভাজাভুজির কাজেই বেসনের গ্রেভি তৈরি করতে হয়। সে ক্ষেত্রে বাজার থেকে বেসন কিনতে গেলে ভেজালের সম্ভাবনাটাই বেশি।

কারণ দোকানদাররা খেসারির ডালের বেসনকে বুটের ডালের বেসন বলে চালিয়ে দেয়। তাই সেইসব বেসন দিয়ে নাস্তা তৈরি করলে পরিপূর্ণ স্বাদ পাওয়া যায় না। এই ক্ষেত্রে আপনি চাইলেই বাসায় বেসন তৈরি করে নিতে পারেন। অনেকেই হয়তো বেসন নিজেদের বাসায় তৈরি করে থাকেন। তবে যারা পারেন না, তাদের জন্যই আজকের এই বেসন তৈরির প্রণালী।

বেসন তৈরি করার জন্য যা লাগবে তা’ হলোঃ-

দু থেকে তিন কেজি ছোলার ডাল অর্থাৎ বুটের ডাল। বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। কিনে আনার পর এই ডাল কে পরিস্কার করে বেছে ফেলবেন। এইসব বুটের ডালে ছোট ছোট পাথর থাকে।

বেসন তৈরির পুরো প্রণালীটি নিচে দেওয়া হলোঃ-

ডালকে খুব ভালো করে ঝেড়ে ঝুড়ে পরিষ্কার করে নিন। এবার একটি ভিজে কাপড় দিয়ে ডাল গুলো ভালো করে মুছে নেন। তারপর রোদে শুকোতে দিন। ঘন্টা দুয়েক রোদ লাগালেই হবে, ডালের ভেজা ভাবটা চলে যাওয়ার জন্য। এরপর মেশিনে দিয়ে চূর্ণ করে নিন। এগুলো আপনি বাজারের মিলে গুঁড়া করতে পারেন। যে সব মিলে চাউলের গুড়া, হলুদ ও মরিচ গুড়া করা হয়। [বাজারের মিলে গুড়া করতে গেলে তারা দুই কেজির নিচে কোন জিনিস গুড়া করেন না]।

আর যদি আপনি বাসায় করতে চান, তাহলে এত বেশি পরিমাণে ডাল লাগবে না। আপনার গ্রাইন্ডারের জার অনুযায়ী ডাল নিতে পারেন। সেটা আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী করতে পারেন। আপনি চাইলে একসাথে বেশিও করে নিতে পারেন। ডাল গুঁড়া করা শেষ হয়ে গেলে এবার চালুনি দিয়ে ভালো করে চেলে নিবেন। তৈরি হয়ে গেল আপনার একদম পিওর বেসন।

বেসন কোন্ কোন্ কাজে ব্যবহার করা যায়

বাসায় তৈরি করা এই বেসন রূপচর্চা করা থেকে শুরু করে রান্নার নানা রকম কাজে ব্যবহার করা যায়। চিকেন ফ্রাই করার সময় ক্রাম্প তৈরীর কাজে অন্যান্য উপকরণের সাথে বেসন ব্যবহৃত হয়। বেগুনি তৈরির কাজে বেসন অবশ্যই লাগে। চলুন তাহলে এক ঝটকায় দেখে নিইঃ-

বেগুনি কিভাবে তৈরি করা হয় ?

একটা 🍆 বেগুনকে পাতলা পাতলা করে কেটে নিন। এই স্লাইস করা বেগুন গুলোকে কিছুক্ষণ লবণ পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর বেগুন গুলোকে তুলে পানি ঝরিয়ে নিন। তারপর বেগুনে একটু হলুদ মরিচ দিয়ে মাখিয়ে রাখেন। লবণ কিন্তু দিবেন না।

এবার অন্য একটি পাত্রে বেগুনের পরিমাণ অনুযায়ী বেসন নিন।

★একটু একটু করে পানি মেশাতে থাকুন। এমন ভাবে বেসনের গ্রেভিটি তৈরি করুন, যাতে না খুব পাতলা হয়, না খুব ঘন হয়।

[ যারা মাত্র নতুন সংসার শুরু করতে যাচ্ছেন তাদের জন্য রান্নাঘরের সবকিছুই কঠিন এবং নতুন। তাই তারা যদি বুঝতে না পারেন, তবে একটি স্লাইস করা বেগুনের টুকরোটি এই বেসনের গ্রেভির ভেতরে ডুবিয়ে দেখুন। গ্রেভির ভিতরে বেগুনি ডুবিয়ে নেওয়ার নিয়ম হলো বেগুনকে উপরের দিকে দুটো আঙ্গুল দিয়ে ধরে একবার সামনে দিকে টেনে তারপর উল্টোদিকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে হবে। যদি দেখেন যে বেসন এর গ্রেভিটি বেগুনে ভালোভাবে লাগছে তাহলে বুঝবেন গ্রেভিটি হয়ে গেছে। ]

★এবার বেসনে পরিমাণ মতো লবণ, হলুদ

[ যারা একটু ঝাল খেতে পছন্দ করেন তারা একটু গুড়ো মরিচ দিয়ে] দিন। বেসনে লবণ একটু কম দিতে হয়।

★এবার একটু আদা বাটা, একটু রসুন বাটা দিয়ে দিন।

★এর সাথে যোগ করুন এক চা চামচ সয়াবিন তেল।

★কয়েক চিমটি কালো গোলমরিচের গুড়ো

★এক চা চামচ কর্নফ্লাওয়ার যোগ করুন ক্রিসপি হওয়ার জন্য।

আপনি যদি বেগুনি কে লাল করে ভেজে নিতে চান তবে এই বেসনের গ্রেভির ভেতরে একটু [না থাকলে ]খাওয়ার সোডা দিতে পারেন। এই উপকরণের মাধ্যমে বেগুনি ভাজি করলে অত্যন্ত সুন্দর একটি লাল কালার আসে।

বেসনের গ্রেভি তৈরি হয়ে গেলে এবার একটি একটি করে স্লাইস করা বেগুন গুলো গ্রেভি করে রাখা বেসনে ডুবিয়ে নিয়ে তেলের মধ্যে ছেড়ে দিবেন। একসাথে অনেকগুলো তেলে ছাড়তে যাবেন না।

একসাথে বেগুনের স্লাইস গুলো দিলে বেগুনি গুলো একটার সাথে আরেকটি লেগে গিয়ে বেগুনীর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যায়। ভালোভাবে বেগুনি গুলো হতে পারে না। একটার সাথে আরেকটা যেন লেগে না যায় সেই ভাবে বেগুন গুলো তেলে ছেড়ে দিবেন। দেখবেন কি চমৎকারভাবে পুরোটা ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। একটি প্লেটে টিস্যু বিছিয়ে রাখুন। এবার ঝাঁঝড়ি দিয়ে প্রতিটি বেগুনি প্লেটে টিস্যুর উপরে তুলে রাখুন। আর খেয়ে দেখুন চমৎকার স্বাদের বেগুনি।

একটি ছোট্ট টিপসঃ- দীর্ঘদিন ধরে বেসন ব্যবহৃত না হয় তবে সে ক্ষেত্রে বেসন যদি বাহিরে থেকে যায় তবে বেসন কিন্তু খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বেসন ভালো থাকার জন্য ডিপ ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। যতদিন ইচ্ছে নিশ্চিন্তে ডিপ ফ্রিজে বেসন রেখে দিতে পারেন। যখন দরকার হবে তখন যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু নিলেই হবে।

Image:Aponar Doctor

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *