থেমে গেলেন তো, হেরে গেলেন | When Queen Talks | Best Life stories ever
You cannot copy any content of this page! For Permission: Ferdous Ara. Thank You!

থেমে গেলেন তো, হেরে গেলেন

মানুষ তার মন দিয়ে কল্পনার জগতে সুখের প্রতিচ্ছবি খুব সহজেই আঁকতে পারে। কারণ সবাই সুখী হতে চায় দুঃখী হতে কেউই চায় না। সুখী হতে চাওয়া হলো মানুষের একটি তীব্র আকাঙ্ক্ষা অপরদিকে দুঃখ কষ্ট হলো মানুষের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চাওয়া।

এই অনাকাঙ্খিত চাওয়া যখন কোন মানুষের জীবনে এসে পড়ে তখন সে ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যহত হয়। স্হবির হয়ে পড়ে সমস্ত উৎসাহ-উদ্দীপনা। মন খারাপ হয়ে বিষণ্নতা এসে মনে দানা বাঁধে। দুঃখী মানুষটি নানা রকম হতাশা আর নিরাশার দোলাচলে দুলতে থাকে। ব্যর্থতার গ্লানি তাকে কুরে কুরে খায়। জীবনকে অর্থহীন মনে হয়। অনেক সময় জীবনের উপর চরম বিতৃষ্ণাও কাজ করে থাকে।

জীবন যখন এমন দুর্বিষহ অবস্থায় পৌঁছে যায় তখন যারা দৃঢ় মনোবলের অধিকারী তারা জীবনের সাথে লড়াই করে নতুন করে আবার শুরু করতে পারে। আর যাদের ভেতরে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকে তারা আত্মগ্লানিতে ভুগতে ভুগতে জীবনকেই শেষ করে দিতে চায়। দুর্বল চিত্তের মানুষ যারা তারা এই ধরনের অতর্কিতে ধেয়ে আসা বিপদের সাথে মোকাবেলা করার সাহস রাখে না। তখন অনেকেই ঘুমের ওষুধ খেয়ে কিংবা আরো অন্য কিছু করে জীবনের সমাপ্তি ঘটাতে প্রস্তুত হয়ে পড়ে।

বিভিন্ন কারণে মন খারাপ হতে পারে

যে কোনো সময় যেকোনো জায়গা থেকে মানুষ মানুষকে আঘাত দিয়ে কথা বলা, প্রেমিক প্রেমিকার ব্রেকআপ হয়ে যাওয়া, যেকোনো তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে একে অপরকে অপমান করা, ধন সম্পদ, টাকা পয়সা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে, স্বামী স্ত্রীর পরকীয়া এ ধরনের নানা রকম দুঃখ, যন্ত্রণা, কষ্টের কারণে মানুষের ভেতরে রাগ, দুঃখ, হতাশা, অভিমান, ইত্যাদি কষ্টের পাহাড় গড়ে ওঠে।

ফলে ব্যথিত মানুষটি খুব অসহায় বোধ করে, নিজেকে খুব একা মনে করে। পৃথিবীর সমস্ত কষ্ট গুলো মনে হয় যেন তার বুকের উপরে চেপে আছে। তখন সেই মানুষটি নিমজ্জিত হয় এক বিধ্বস্ত কষ্টকর পৃথিবীতে। মানুষের জীবনে এমন এমন কিছু সময় আসে হৃদয় মন সব ভেঙ্গে চুরে চুরমার হয়ে যায়। মানুষ বিধ্বস্ত অবস্থায় নিপতিত হয়।

হৃদয় ঘটিত ব্যাপার গুলোতে সাধারনত বেশিরভাগ ইয়াং জেনারেশান বিপথে চলে যায়। কেউবা আবার আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। যেটা খুবই দুঃখজনক। মনে রাখবেন, আত্মহত্যা কোনো মৃত্যু নয়। আত্মহত্যার অর্থ হলো জোর করে শরীর থেকে আত্মাকে বের করে আনা। এরপর এই আত্মা পৃথিবীতে ভাসমান অবস্থায় বেঁচে থাকবে। জীবিত অবস্থায় আপনি যেমনই ছিলেন তেমনই থাকবেন। শুধু আপনার দেহটা থাকবে না। যে আত্মহত্যা করে তার দুনিয়া ও আখেরাতে কোন মুক্তি নেই।

সিদ্ধান্ত নেবার আগে বোঝার চেষ্টা করুন

মনে রাখবেন, আপনি আপনাকে সৃষ্টি করেননি। বিধাতা আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি আপনাকে আপনার চেয়েও বেশি ভালোবাসেন। আল্লাহর পরিকল্পনা ছাড়া কিছুই হয় না। যা কিছু হয়েছে কিংবা হচ্ছে তা আপনার মঙ্গলের জন্যই হচ্ছে এই কথা ভেবে ধৈর্যের সাথে সময়টুকু পার করতে চেষ্টা করবেন। মনে রাখবেন, আল্লাহ যখন কারো জীবনে কোনো পরিবর্তন আনতে চান, তখনই কিন্তু মানুষের জীবনে বিপদ আপদ চারিদিক থেকে ঘিরে ধরতে পারে, তাই কখনো হতাশ হবেন না।

অন্ধকার রাতের পর সোনালী সূর্য উঠবেই

এমনও কিন্তু হয় যে, হঠাৎ করে চারিদিক থেকে দুঃখ যন্ত্রণা কষ্ট গুলো কামানের তীরের মতো ছুটে আসতে থাকে। তখন মানুষ হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। আমার অভিজ্ঞতায় আমি এমন অনেক মানুষকে দেখেছি, যারা তাদের অফুরন্ত সুখময় জীবনে অতর্কিতে এসব দুঃখ কষ্টের শিকার হয়েছেন। পরম ধৈর্য্য সহকারে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছেন। যাতে সাহসিকতার সাথে এই দুঃসময়গুলো পার করতে পারেন। পরে দেখা গেছে তাঁরা এই দুঃখ কষ্টের বিনিময়ে অতি উত্তম পুরস্কার পেয়েছেন।

আল্লাহ যদি অমঙ্গল করেন তাহলে মঙ্গল করবেন কে?

শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক এই তিনটি দিক থেকে একই সাথে দুর্বার গতিতে দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রনা এগুলো যখন বিপদ হয়ে আপনাকে ঘিরে ধরবে তখনও নিরাশ না হয়ে বরং সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রাখবেন। বিশ্বাস রাখবেন আল্লাহ কখনই কোন বান্দার জন্য অমঙ্গল চিন্তা করেন না। একদম সোজা একটি হিসেবে যদি বলতে যাই, তাহলে চিন্তা করে দেখুন, যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তিনি যদি আমাদের অমঙ্গল করেন কিংবা ক্ষতি করতে চান, তাহলে আমাদের ভালোটা কে করবে ? আল্লাহ ছাড়া এমন আর কে আছে যে আমাদের জন্য মঙ্গল করবে ? কেউ নেই।

এই পৃথিবী বরাবরই সাহসী যোদ্ধাদের কেই বাহবা দিয়েছে

জীবন মানেই হলো লড়াই করে টিকে থাকা। এই জীবন নামক যুদ্ধের ময়দানে যে থেমে গেছে সে হেরে গেছে। আর যে ব্যক্তি সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও বীরদর্পে যুদ্ধ করে নিজেকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে সে-ই হলো সাহসী জীবন যোদ্ধা। তাই মনে রাখবেন থেমে গেলেন তো হেরে গেলেন। হেরে যাওয়া মানুষের জন্য পৃথিবী বড়ই নির্মম।

নিজের দুঃখ টাকে খুব বড় মনে করবেন না

যখন কোনো মানুষ দুঃখ কষ্টে নিপতিত হয় তখন মনে করে যে, তার চেয়ে এত বড় দুঃখী পৃথিবীতে আর কেউ নেই। নিজের দুঃখ টাকেই সবচেয়ে বড় মনে করে। অথচ চারিদিকে একটু ভালো করে খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন যে, আপনার চেয়েও অনেক বেশি বেশি দুঃখ কাতর মানুষ আছেন। পার্থক্য হলো যার যার ক্ষেত্রবিশেষ।

যা হবার কথা ছিল তা-ই হয়ে থাকে

জীবনে যত বড়ই ঝড় ঝাপটা আসুক না কেন তা কখনোই চিরস্থায়ী হয় না। যত মুষলধারেই বৃষ্টি হোক না কেন কিংবা বন্যায় সমস্ত এলাকা ভেসে যাক না কেন, পুকুরে যতটুকু পানি থাকার কথা অতটুকু পানি কিন্তু ঠিকই রয়ে যায়। তাই যে কোন বিপর্যয়ে অতিরিক্ত উৎকণ্ঠা কিংবা হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ যা হবার তা-ই হবে এবং যা হওয়ার কথা ছিল তাই হয়েছে।

কখনো হার মানা উচিৎ নয়

পরিবেশ পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন হার মানতে নেই। সাহসীকতার সাথে মোকাবেলা করার মধ্যেই সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যায়। গভীর অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভেতরে ভয়ে বসে থাকলেই কি পথ পাওয়া যাবে ? যাবে না। যতটুকু শক্তি আছে অতটুকু দিয়েই অন্ধকার সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে হবে। তবেই না গিয়ে সুড়ঙ্গের অপর মাথায় আলোকিত পথের দেখা মিলবে।

Image:Women in the Bible

3 thoughts on “থেমে গেলেন তো, হেরে গেলেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *